সিকিউরিটি এবং পারফর্মেন্স

কিভাবে ওয়ার্ডপ্রেস সাইটের স্পীড বাড়াবেন?

ওয়েবসাইটের পেজ দ্রুত লোড হলে পেজ ভিউ এবং SEO স্কোর দুটোই বাড়বে। সেই সাথে আপনার সাইট ভিজিট করতে এসে ভিজিটরও বিরক্ত হবে না। এখনে আমি আপনাদের সাথে কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস শেয়ার করবো যার মাধ্যমে আপনার ওয়ার্ডপ্রেস সাইটের স্পীড কয়েকগুণ বাড়িয়ে নিতে পারবেন।

ওয়েবসাইটের স্পীড কেনো গুরুত্বপূর্ণ?

২০০০ থেকে ২০১৬ সালের একটা পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গড়ে ১২ থেকে ৭ সেকেন্ড সময়ের পরে মানুষের মনোযোগ কমে যায়। অর্থাৎ আপনার ওয়েবপেজের বিষয়বস্তু ভিজিটরকে দেখানোর জন্য আপনি খুবই কম সময় পাচ্ছেন। তার মানে আপনার সাইট যদি স্লো হয়, পেজ পুরোপুরি লোড হওয়ার আগেই ভিজিটর আপনার সাইট/পেজ থেকে চলে যেতে পারেন।

Amazon, Google এবং অন্যান্য কয়েকটি বড় সাইটের উপর StrangeLoop এর একটি কেস স্টাডি থেকে জানা যায় প্রতি ১ সেকেন্ড স্লো হওয়ার কারনে-

  • ৭% কনভার্শন কমে যায়
  • ১১% পেজ ভিউ কমে যায়
  • ১৬% কাস্টমার সন্তুষ্টি কমে যায়

আরেকটি বড় বিষয় হলো Google এবং অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনগুলো স্লো ওয়েবসাইটগুলোকে সার্চ রেজাল্টে লিস্টের শেষের দিকে দেখায়। যার ফলে সার্চ করে আপনার সাইট খুজে পাওয়া কষ্ট হয়ে দাড়াবে।

মোটকথা, আপনি যদি বেশি ভিজিটর ও গ্রাহক চান এবং আপনার রেভিনিউ বাড়াতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে সাইটের স্পীড বাড়াতে হবে।

কিভাবে আপনার ওয়েবসাইটের স্পীড পরীক্ষা করবেন?

নতুনদের কাছে ওয়েবসাইটের স্পীড ঠিকই আছে বলে মনে হয়। কিন্তু এটা একটা বড় ভুল। কারন, আপনার ওয়েবসাইট আপনি হয়তো সবসময়ই ভিজিট করছেন। আধুনিক ব্রাউজারগুলো যেমন Chrome আপনার ওয়েবসাইটের অনেককিছুই Cache মেমরিতে জমা রাখে। যার ফলে আপনি খুব দ্রুত সাইট ভিজিট করতে পারেন।

কিন্তু যিনি প্রথমবার আপনার সাইট ভিজিট করবেন, তার ক্ষেত্রে বিষয়টা এমন হবে না। তাছাড়াও ভিজিটরের ভৌগলিক অবস্থানের উপর ভিত্তি করেও সাইটের স্পীড কম/বেশি হবে।

আপনি নিচের টুলগুলো ব্যাবহার করে আপনার ওয়েবসাইটের স্পীড দেখে নিতে পারেন-

স্পীড টেস্ট করার পর কি মনে হচ্ছে? আপনার চিন্তা হতে পারে পেজ লোডিং টাইম কত সেকেন্ড হলে ভালো হতো? সেক্ষেত্রে বলা যেতে পারে ২ সেকেন্ড বা তার কম সময় হলে সবচেয়ে ভালো।

কি কারনে সাইট স্লো হতে পারে?

স্পীড টেস্ট রিপোর্টে পেজের স্পীড বাড়ানোর জন্য আনেকগুলো বিষয় পাবেন। কিন্তু নতুনদের জন্য সেগুলো বেশ জটিল মনে হতে পারে।

আসলে কি কারনে আপনার সাইট স্লো লোড হচ্ছে তা সঠিকভাবে ধরতে পারলে এই সমস্যার দীর্ঘস্থায়ী সমাধান করা সম্ভব। প্রাথমিকভাবে নিম্নোক্ত কারনে পেজ লোডিং স্লো হতে পারে-

  • ওয়েব হোস্টিং – আপনার ওয়েব হোস্টিং সার্ভার যদি যথাযথভাবে কনফিগার করা না হয়ে থাকে তবে আপনার সাইট স্লো হতে পারে।
  • ওয়ার্ডপ্রেস কনফিগারেশন – আপনার ওয়ার্ডপ্রেস সাইট যদি Cached পেজ না সার্ভ করে তাহলে সেটি সার্ভার ওভারলোড করবে। ফলস্রুতিতে সার্ভার স্লো হয়ে যাবে এমনকি ক্র্যাশও করতে পারে।
  • পেজের আকার – প্রধানত পেজে ব্যবহৃত ছবিগুলো অপটিমাইজড না হলে পেজ লোডিং স্লো হয়।
  • প্লাগিন – কিছু প্লাগিন আছে যেগুলো যথাযথভাবে কোডিং না করার কারনে সাইটের স্পীড কমিয়ে দেয়।
  • এক্সটার্নাল স্ক্রিপ্ট – বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন, ফন্ট লোডার এবং অন্যান্য এক্সটার্নাল JavaScript এর কারনেও সাইট স্লো হতে পারে।

আশা করি কি কি কারনে আপনার ওয়ার্ডপ্রেস সাইট স্লো হতে পারে সে বিষয়ে ধারনা পেয়েছেন।

কিভাবে সাইটের স্পীড বাড়াবেন?

১. ওয়ার্ডপ্রেস ক্যাশিং প্লাগিন ইন্সটল করা

ওয়ার্ডপ্রেসের পেজগুলো হলো ডাইনামিক। অর্থাৎ প্রতিবার ভিজিটর পেজ ভিজিট করার সময় সার্ভারে HTML পেজ তৈরি হয়। এই পেজ তৈরি হতে বেশ কিছুটা সময় লাগে। পেজের সাইজ যত বড় হবে সময় তত বেশি লাগবে। কিন্তু ক্যাশিং প্লাগিন ব্যবহার করলে প্রথমবার পেজ তৈরি হয়ে সেটা সেভ হয়ে থাকবে এবং পরবর্তীতে সেভ থাকা ঐ পেজ ভিজিটর দেখতে পারবে। যার ফলে পেজ তৈরি হতে যে সময়টা লাগবে সেটা আর লাগবে না এবং খুব দ্রুত পেজ লোড হবে।

ওয়ার্ডপ্রেস এর পেজ তৈরির প্রসেস

আপনি অনেক ফ্রি এবং প্রিমিয়াম ক্যাশিং প্লাগিন পাবেন। ফ্রি প্লাগিন হিসেবে আপনি WP Super Cache ব্যবহার করতে পারেন। আমি নিজেও এটা ব্যবহার করি। এছাড়াও ব্যবহার করতে পারেন W3 Total Cache। (পরবর্তীতে অন্য কোনো পোস্টে ক্যাশিং প্লাগিন ইন্সটল করা এবং কনফিগার করা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ)

২. ইমেজ অপটিমাইজেশন

ইমেজ বা ছবির ব্যবহার নিঃসন্দেহে আপনার পোস্টকে অনেক আকর্ষণীয় করে তোলে। এক গবেষণায় দেখা যায় ছবিযুক্ত কন্টেন্ট পড়তে পাঠক ৮০% বেশি স্বাচ্ছন্দবোধ করেন। কিন্তু ছবিগুলো যদি যথাযথ অপটিমাইজড না হয় তাহলে ভালোর চেয়ে খারাপ বেশি হতে পারে। বড় সাইজের ছবির কারনে পেজ লোডিংয়ের সময় বেশি লাগতে পারে এবং পাঠক বিরক্ত হতে পারে।

ক্যামেরায় তোলা ছবির সাইজ অনেক বড় হয় যেটা সরাসরি আপলোড না করে যে কোনো ফটো এডিটিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে অপটিমাইজ করে তারপর আপলোড করুন। সবচেয়ে কম সাইজের ছবি পেতে JPEG ফরম্যাট ব্যবহার করুন।

উপরের চার্ট দেখলে বুঝতে পারবেন, ছবির ফরম্যাট আপনার সাইটের পারফর্মেন্স এর উপর অনেক প্রভাব ফেলতে পারে। (কিভাবে সফটওয়্যার ব্যবহার করে ইমেজ অপটিমাইজ করবেন তা নিয়ে আরেকটি বিস্তারিত পোস্ট করব ইনশাআল্লাহ)

সাইটের স্পীড বাড়ানোর জন্য আরও কিছু টিপস

শুধুমাত্র ক্যাশিং প্লাগিন ইন্সটল করে এবং ইমেজ অপটিমাইজ করার পরই দেখবেন আপনার সাইট আগের চেয়ে অনেক দ্রুত লোড হচ্ছে। কিন্তু আপনি যদি সাইটকে সর্বোচ্চ স্পীড দিতে চান তাহলে আরু কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। চলুন সেগুলো জেনে নেওয়া যাক-

  • ওয়ার্ডপ্রেসের ভার্সন আপডেটেড রাখুন।
  • পোস্টের কমেন্টগুলো পেজ ভিত্তিক করে দেখান।
  • CDN ব্যবহার করতে পারেন।
  • Audio/Video ফাইল সরাসরি ওয়েবসাইটে আপলোড না করে YouTube, Vimeo, DailyMotion, SoundCloud বা এধরনের কোনো সাইটে আপলোড করে ব্যবহার করুন।
  • ভালো স্পীডের জন্য অপটিমাইজড কোনো থিম ব্যবহার করুন।
  • বেশি বড় পোস্টকে একাধিক ভাগে ভাগ করে আলাদা আলাদাভাবে পোস্ট করুন।
  • যথাসম্ভব কম এক্সটার্নাল স্ক্রীপ্ট, ইমেজ ইত্যাদি ব্যবহার করুন।
  • ডাটাবেজ অপটিমাইজ করুন। WP Sweep প্লাগিন ব্যবহার করে এটি করতে পারেন।
  • Hotlinking এবং Leaching ডিজেবল করে রাখুন।
  • ইমেজ, ভিডিও ইত্যাদির দেখানোর ক্ষেত্রে Lazy Loading ব্যবহার করতে পারেন। অনেক ভালো থিমে এই ফিচার থাকে। না থাকলে Lazy Load by WP Rocket প্লাগিন ব্যবহার করতে পারেন।
  • DNS Level Website Firewall যেমন- Sucuri বা Cloudflare ব্যবহার করুন।
  • সাইটে SSL ইন্সটল করলে মিক্স কন্টেন্ট সমস্যা সমাধানে Really Simple SSL প্লাগিন ব্যবহার করা হয়। কিন্তু প্লাগিন ব্যবহার না করে যদি সমস্যা সমাধান করা যায় তাহলে ভালো।
  • সর্বশেষ PHP ভার্সন ব্যবহার করুন। নতুন PHP 7 আগের তুলনায় অনেক ফাস্ট কাজ করতে পারে।

এই ছিলো মোটামুটি ওয়ার্ডপ্রেস সাইটের স্পীড বাড়ানো টিপস। আশা করি এটি আপনার সাইটের স্পীড বাড়াতে সাহায্য করবে। আপনার কোনো মতামত থাকলে কমেন্টে জানাতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close